পুলে ৮০০০ ক্যালরির পিটি
স্বাগতিক দেশের সাঁতারুদের নিয়েই বেশি কল্লোলিত হয় প্রতিযোগিতা। তবে হাঙ্গেরিয়ান দর্শক একই রকম কান ফাটানো হাততালি আর চিৎকার বরাদ্দ রেখেছিল পিটির জন্যও। হাঙ্গেরিতে এমন ‘পিটি-ম্যানিয়া’ দেখে মুগ্ধ রিও অলিম্পিকের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের সোনাজয়ী, ‘আমাকে নিয়ে গ্যালারি সত্যি খুব উন্মত্ত। একজন হাঙ্গেরিয়ান পুলে এলে বড় শোরগোল ওঠে। আমিও একই রকম সমর্থন পেয়েছি। এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
দর্শক যেমন পিটিতে মুগ্ধ, পিটিও মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। গত মঙ্গলবার ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে পুলে যেন ঝড়ই তুলেছিলেন। এক দিনে একই ইভেন্টে দুবার ভেঙেছেন বিশ্ব রেকর্ড। সকালে প্রাথমিক হিটে ২৬.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙেন পিটি। ওই সন্ধ্যায়ই সেমিফাইনালে রেকর্ড ভাঙেন আবার। এবার তিনি সাঁতার শেষ করেন ২৫.৯৫ সেকেন্ডে। এর আগে কোনো সাঁতারুই ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ২৬ সেকেন্ডের নিচে শেষ করতে পারেনি। ২৫.৯৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে গত বুধবার এই ইভেন্টের সোনার পদক গলায় ঝোলান পিটি। ৫০ মিটারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের সোনাও ধরে রেখেছেন ২২ বছর বয়সী সাঁতারু।
কাজানে ২০১৫ সালে সোনা জিতেছিলেন ১০০ মিটার মিডলের রিলের সোনা। আজ বুদাপেস্টে এটা ধরে রাখতে পারলে দুটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর সোনা হয়ে যাবে ছয়টি। পিটিকে সমর্থন জানাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সোচ্চার তাঁর ভক্তরা। পিটি পুশ-আপে নিজের শরীরটাকে শূন্যে তুলে ফেলেছেন—‘পিটি পুশ-আপ’ শিরোনামে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। এসব ভালোই লাগে পিটির, ‘দেশের মানুষের কাছ থেকে আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমি যে সমর্থন পাচ্ছি সেটা অসাধারণ।’
আরও এগিয়ে যেতে প্রতিদিনই কঠিন পরিশ্রম করেন পিটি। এতটাই কঠিন পরিশ্রম যে অনুশীলন চলাকালে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালরি প্রতিদিন তাঁকে নিতে হয়। একজন পুরুষের প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৫০০ ক্যালরি প্রয়োজন। পিটি সেখানে অনুশীলনের দিনগুলোয় ৮ হাজার ক্যালরির খাবার খান। যেটা কেএফসির ১০টি বার্গারের দুটি বাকেটের সমান। ম্যাকডোনাল্ডসের বড় ‘মিলের’ হিসাবে সাতটি। এত ক্যালরি যায় কোথায়? শুনুন পিটির মুখেই, ‘আমি যখন অনুশীলনে থাকি কী খেলাম সেটা কোনো ব্যাপারই নয়। অনুশীলনেই আমি সব ক্যালরি নিঃশেষ করে দিই।’ তবে মাংসের বেলায় খুব সাবধানী পিটি। মুরগি ছাড়া আর কোনো মাংস তিনি মুখে তোলেন না। দুধও তাঁর খাবার তালিকায় নেই।
এত পরিশ্রমের ফল এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেই পেয়েছেন পিটি। উন্নতি করতে চান দিকে নজর তাঁর, ‘আমি এরই মধ্যে ভাবতে শুরু করে দিয়েছি ৫০ মিটার (ব্রেস্টস্ট্রোক) কীভাবে ২৫.৫ সেকেন্ডে শেষ করব। ১০০ মিটার কীভাবে ৫৬ সেকেন্ডের সীমানায় নিয়ে আসব। এটা হয়তো শিগগিরই আসবে।’ পিটি ঝড় তুলছেন পুলে, আর তাঁকে নিয়ে ঝড় উঠছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে। একদিন এমনটা ভাবতেও পারেননি পিটি, ‘কয়েক বছর আগেও আমি ভাবতে পারিনি সুইমিং দেশে এতটা কভারেজ পাবে।’ পিটি যে একদিন সাঁতারপুলে ঝড় তুলবেন, সেটা তাঁর পরিবারের কেউই ভাবতে পারেননি। ছোটবেলায় জলকে বড্ড ভয় পেতেন। পিটির মা ক্যারোলিন সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে বলেছেন, ‘ও তো বাথটাবে নামতেই ভয় পেত!’ এএফপি।


0 comments: